বাক্যতত্ত্ব
এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে, যা দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়। বাক্যের মধ্যে থাকা প্রতিটি শব্দকে 'পদ' বলা হয় এবং একাধিক পদের গুচ্ছ যখন একত্রে কাজ করে তখন তাকে 'বর্গ' বলে। একটি সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ থাকে:
কর্তা: বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়।
কর্ম: যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়।
ক্রিয়া: যা দিয়ে কোনো কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বোঝায়।
বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা বা না-থাকার ওপর ভিত্তি করে বাক্য দুই প্রকার:
সক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যে ক্রিয়া থাকে (যেমন: আমার মা চাকরি করেন)।
অক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যে ক্রিয়া থাকে না (যেমন: তিনি বাংলাদেশের নাগরিক)।
বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে চার ভাগে ভাগ করা যায়: ১. বিবৃতিবাচক বাক্য: সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় (যেমন: আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম)। ২. প্রশ্নবাচক বাক্য: কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য প্রশ্ন করা হয় (যেমন: তোমার নাম কী?)। ৩. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ বা প্রার্থনা বোঝায় (যেমন: আমাকে একটি কলম দাও)। ৪. আবেগবাচক বাক্য: অবাক হয়ে বা বিস্ময় প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয় (যেমন: দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি)।